Yuva Sathi Mobile App Launch: রাজ্যে বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তা নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার ভিড় বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকে জানতে চাইছেন—মোবাইল থেকেই কি সম্পূর্ণ আবেদন করা যাবে? ‘বাংলার যুবসাথী’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করে কি ভাতার জন্য আবেদন করা সম্ভব?
সরকারি পোর্টালে দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে অ্যাপ ডাউনলোড ও আবেদন করলে প্রক্রিয়া সহজ হয়। তবে ভুল লিঙ্ক বা ভুয়ো অ্যাপ এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি। নিচে ধাপে ধাপে সঠিক পদ্ধতি, লগইন নিয়ম, স্ট্যাটাস চেক ও সাধারণ ভুলগুলো তুলে ধরা হল।
সম্পর্কিত পোস্ট
মমতা দিচ্ছে মাসে ৫,০০০ বা বছরে ৬৫,০০০ টাকা! এই প্রকল্প সম্পর্কে জানেন তো? - WB Govt Shramshree Scheme 2026
অ্যাপ ডাউনলোডের সঠিক উপায়
অনেকেই গুগল প্লে স্টোরে সরাসরি সার্চ করে অ্যাপ খুঁজে পান না। কারণ এই অ্যাপটি সাধারণ সার্চে নাও আসতে পারে। তাই অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকেই ডাউনলোড করা নিরাপদ।
ধাপে ধাপে যা করবেন
১. মোবাইল ব্রাউজার খুলে অফিসিয়াল পোর্টালে যান (সরকারি ডোমেইন নিশ্চিত করুন)।
২. মূল পেজে “Apply Online” অপশনে ক্লিক করুন।
৩. সেখানে “Download Mobile App” লিঙ্কে ট্যাপ করুন।
৪. প্রায় ৮ এমবি সাইজের অ্যাপ ডাউনলোড হবে।
৫. ইনস্টল করার আগে ফোনের সেটিংসে গিয়ে “Unknown Sources” অনুমতি সাময়িকভাবে অন করতে হতে পারে।
৬. ইনস্টল সম্পন্ন হলে নিরাপত্তার জন্য অনুমতিটি আবার বন্ধ করে দিন।
সতর্কতা: শুধু সরকারি সাইট থেকে ডাউনলোড করুন। তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইট বা অচেনা লিঙ্কে ক্লিক করবেন না।
অ্যাপে লগইন ও আবেদন প্রক্রিয়া
অ্যাপ ইনস্টল করার পর প্রথমে মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
লগইন ধাপ
- মোবাইল নম্বর লিখুন
- OTP দিয়ে যাচাই সম্পন্ন করুন
- প্রোফাইল পেজ খুললে আবেদন ফর্ম পূরণ শুরু করুন
যে তথ্যগুলো লাগবে
- নাম (মাধ্যমিকের নথি অনুযায়ী বড় হাতের অক্ষরে)
- আধার নম্বর
- জন্মতারিখ
- অভিভাবকের নাম
- ক্যাটাগরি (SC/ST/OBC/General)
- জেলা, ব্লক, থানা, পিনকোড
- মাধ্যমিক বোর্ড, পাশের সাল, রোল নম্বর
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও IFSC কোড
সব তথ্য নির্ভুলভাবে দিতে হবে। বিশেষ করে ব্যাঙ্কের তথ্য পাসবুক দেখে লিখুন।
নথি আপলোডের নিয়ম
অ্যাপে নির্দিষ্ট সাইজ ও ফরম্যাটে নথি আপলোড করতে বলা হয়। সাধারণত প্রয়োজন হয়—
- মাধ্যমিকের মার্কশিট বা সার্টিফিকেট
- পরিচয়পত্র
- ঠিকানার প্রমাণ
- ব্যাঙ্ক পাসবুকের প্রথম পৃষ্ঠা
সঠিকভাবে আপলোড হলে সবুজ সংকেত দেখা যাবে। এরপর “Self Declaration” অপশনে টিক দিয়ে “Final Submit” করুন।
সাবমিট করলেই একটি Application ID তৈরি হবে। এটি অবশ্যই সংরক্ষণ করুন।
আবেদন স্ট্যাটাস কীভাবে দেখবেন?
আবেদন জমা দেওয়ার পর অনেকেই জানতে চান—ফর্ম গ্রহণ হয়েছে কি না।
অ্যাপে “Check Status” অপশনে গিয়ে—
- মোবাইল নম্বর দিন
- OTP দিয়ে লগইন করুন
- স্ট্যাটাস দেখুন
এখানেই জানা যাবে আবেদন যাচাইয়ের পর্যায়ে আছে, নাকি অনুমোদিত হয়েছে।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
যোগ্যতার শর্তগুলি স্পষ্টভাবে মেনে চলা জরুরি।
বয়সসীমা
- ন্যূনতম ২১ বছর
- সর্বোচ্চ ৪০ বছর
শিক্ষাগত যোগ্যতা
- অন্তত মাধ্যমিক পাশ
পেশাগত অবস্থা
- আবেদনকারীর বর্তমান অবস্থা ‘Unemployed’ বা বেকার হতে হবে
অন্যান্য শর্ত
- স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে
- ভোটার কার্ড থাকা প্রয়োজন
- বৈধ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে
অন্য প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা কি আবেদন করতে পারবেন?
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা যোগ্য নাও হতে পারেন। তবে শিক্ষামূলক স্কলারশিপ প্রাপকদের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম থাকতে পারে।
আবেদন করার আগে অফিসিয়াল নোটিফিকেশন দেখে নেওয়া উচিত, কারণ নিয়ম সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে।
সাধারণ ভুল এড়ান
অনেক আবেদন বাতিল হয় ছোটখাটো ভুলের কারণে। যেমন—
- নামের বানান মাধ্যমিকের নথির সঙ্গে না মেলা
- জন্মতারিখ ভুল লেখা
- IFSC কোড ভুল দেওয়া
- পেশার জায়গায় ‘Student’ লেখা
যদি বর্তমানে চাকরি না থাকে, তাহলে পেশা হিসেবে ‘Unemployed’ উল্লেখ করুন।
আবেদন কি সম্পূর্ণ অনলাইনে?
প্রাথমিক আবেদন অ্যাপের মাধ্যমে করা গেলেও, অনেক ক্ষেত্রে প্রিন্ট কপি ও নথির জেরক্স সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিতে হতে পারে। তাই স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলুন।
ভাতা কত এবং কবে?
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, যোগ্য বিবেচিত আবেদনকারীদের মাসিক ১৫০০ টাকা দেওয়া হতে পারে। প্রথম কিস্তি নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী বিতরণ করা হবে। অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত টাকা পাওয়া যাবে না।
নিরাপত্তা ও সতর্কতা
- অফিসিয়াল সাইট ছাড়া অন্য কোথাও ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না
- OTP কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না
- Application ID সংরক্ষণ করুন
- নিয়মিত স্ট্যাটাস চেক করুন
অনলাইনে আবেদন সহজ হলেও সাইবার প্রতারণার ঝুঁকি থাকে। তাই সতর্ক থাকুন।
যুব সাথী প্রকল্পে আবেদন প্রক্রিয়া এখন অনেকটাই সহজ। অফিসিয়াল অ্যাপের মাধ্যমে মোবাইলেই ফর্ম পূরণ, নথি আপলোড ও স্ট্যাটাস চেক করা সম্ভব। তবে সঠিক লিঙ্ক ব্যবহার, নির্ভুল তথ্য প্রদান এবং সরকারি নির্দেশ মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যাঁরা যোগ্য, তাঁরা নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন সম্পন্ন করুন। সঠিকভাবে আবেদন করলে ঘরে বসেই প্রক্রিয়া শেষ করা যায়। এখন অপেক্ষা—যাচাই শেষে কবে থেকে নিয়মিত ভাতা বিতরণ শুরু হয়।
