WB Yuva Sathi Scheme News: রাজ্যের যুব সমাজের জন্য অবশেষে এল গুরুত্বপূর্ণ আপডেট। এতদিন যে নিয়মের কারণে বহু আবেদনকারী দুশ্চিন্তায় ছিলেন, সেই শর্তে বদল আনা হয়েছে। আগে জানানো হয়েছিল, যাঁরা অন্য কিছু সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগী—বিশেষ করে কৃষিজীবী সহায়তা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত—তাঁরা যুব সাথী প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন না। কিন্তু নতুন প্রশাসনিক নির্দেশে সেই অবস্থান শিথিল করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এখন কৃষক বন্ধু প্রকল্পের সুবিধাভোগীরাও যুব সাথী প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন। এমনকি যাঁদের আবেদন আগে বাছাই প্রক্রিয়ায় আটকে ছিল, তাঁরাও নতুন নির্দেশে এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারেন। ফলে বহু যুবক-যুবতীর জন্য খুলে গেল নতুন সম্ভাবনার দরজা।

কী এই যুব সাথী প্রকল্প?
যুব সাথী প্রকল্প মূলত আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা যুব সমাজকে মাসিক অনুদানের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ। এই প্রকল্পের লক্ষ্য—
- বেকার যুবক-যুবতীদের ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়া
- কর্মসংস্থানের প্রস্তুতিকালে সহায়তা করা
- স্বনির্ভরতার পথে উৎসাহ দেওয়া
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, যোগ্য বিবেচিত প্রার্থীদের প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে।
বড় পরিবর্তন: কৃষক বন্ধু থাকলেও আবেদন সম্ভব
আগে জানানো হয়েছিল, কৃষিজীবী সহায়তা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকলে যুব সাথীতে আবেদন গ্রহণ করা হবে না। কিন্তু সাম্প্রতিক আপডেটে সেই সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হয়েছে।
এর ফলে—
- কৃষক পরিবার থেকে আসা যুবকরাও আবেদন করতে পারবেন
- পূর্বে শর্টলিস্ট না হওয়া আবেদনকারীদের পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে
- গ্রামীণ এলাকার আবেদনকারীদের সংখ্যা বাড়তে পারে
এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, কারণ গ্রামাঞ্চলে একই পরিবারে কৃষিকাজ ও বেকারত্ব—দু’টিই বাস্তবতা।
লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে কী অবস্থান?
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধাভোগী মহিলাদের ক্ষেত্রে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক শিথিলতা ঘোষণা করা হয়নি। অর্থাৎ আপাতত যাঁরা ওই প্রকল্পের অর্থ পাচ্ছেন, তাঁদের আবেদন গ্রহণে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।
তবে প্রশাসনিক নির্দেশ পরিবর্তনশীল। ভবিষ্যতে নতুন আপডেট এলে তা স্পষ্ট করা হবে।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
যুব সাথী প্রকল্পে আবেদন করার জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতা নির্ধারিত রয়েছে।
বয়সসীমা
- ন্যূনতম ২১ বছর
- সর্বাধিক ৪০ বছর
শিক্ষাগত যোগ্যতা
- অন্তত মাধ্যমিক পাশ
- স্বীকৃত বোর্ড (রাজ্য বা কেন্দ্রীয়) থেকে উত্তীর্ণ হতে হবে
আবাসিক শর্ত
- পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে
অন্যান্য নথি
- ভোটার কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক
- পরিচয়পত্র ও বাসস্থান সংক্রান্ত নথি আপডেট থাকতে হবে
ভোটার কার্ড না থাকলে আবেদন প্রক্রিয়ায় সমস্যা হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখা জরুরি।
অনুদানের পরিমাণ ও কিস্তি
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী—
- প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা দেওয়া হবে
- যোগ্য প্রার্থীরা মাসিক ভিত্তিতে অনুদান পাবেন
- প্রথম কিস্তি এপ্রিল মাস থেকে দেওয়া হতে পারে
এই অর্থ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে। তাই সক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকা প্রয়োজন।
আবেদন প্রক্রিয়া কীভাবে?
যুব সাথী প্রকল্পে আবেদন করার দুটি পদ্ধতি রয়েছে—অফলাইন ও অনলাইন।
১. অফলাইন আবেদন
- নির্দিষ্ট দিনে গ্রাম পঞ্চায়েত বা পঞ্চায়েত সমিতির ক্যাম্পে উপস্থিত হতে হবে
- আবেদনপত্র সংগ্রহ ও পূরণ করতে হবে
- প্রয়োজনীয় নথির কপি জমা দিতে হবে
- রসিদ সংগ্রহ করতে হবে
অনেক জায়গায় ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্পের মাধ্যমেও প্রাথমিক রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে।
২. অনলাইন আবেদন
- সরকারি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে লগইন করতে হবে
- অনলাইন ফর্ম পূরণ করতে হবে
- প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে
- আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি ও নথির জেরক্স অফিসে জমা দিতে হতে পারে
যদিও অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে চালু হওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে বিভিন্ন জল্পনা রয়েছে, জানা যাচ্ছে ২৬ তারিখের পর থেকে পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ব্যবস্থা শুরু হতে পারে।
আবেদন করার আগে কী খেয়াল রাখবেন?
- নাম, জন্মতারিখ ও ঠিকানা সব নথিতে মিল থাকতে হবে
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সক্রিয় থাকতে হবে
- মোবাইল নম্বর আপডেট রাখা ভালো
- ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে
আবেদন জমা দেওয়ার পর যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে অনুমোদন দেওয়া হবে।
কারা অগ্রাধিকার পেতে পারেন?
যদিও সরকার নির্দিষ্ট অগ্রাধিকার তালিকা প্রকাশ করেনি, তবে সাধারণভাবে—
- আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবার
- কর্মহীন যুবক-যুবতী
- গ্রামীণ এলাকার আবেদনকারী
এঁদের আবেদন দ্রুত বিবেচিত হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই প্রকল্প কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বহু যুবক-যুবতী শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও স্থায়ী চাকরি পাচ্ছেন না। কর্মসংস্থানের প্রস্তুতি, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ফি, যাতায়াত খরচ—এসবের জন্য ন্যূনতম আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।
মাসিক ১৫০০ টাকা হয়তো বড় অঙ্ক নয়, কিন্তু—
- পরীক্ষার ফি
- অনলাইন ফর্ম পূরণ
- কোচিং সামগ্রী
- দৈনন্দিন খরচের সহায়তা
এসব ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
ভবিষ্যৎ কী বলছে?
যুব সাথী প্রকল্পের এই নতুন আপডেট রাজ্যের বহু আবেদনকারীর জন্য স্বস্তির খবর। বিশেষ করে কৃষিজীবী পরিবার থেকে আসা যুব সমাজ এখন আর আবেদন থেকে বাদ পড়বেন না।
তবে লক্ষ্মীর ভান্ডার সংক্রান্ত অবস্থান পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত কিছু অংশের আবেদনকারীকে অপেক্ষা করতে হতে পারে।
যুব সাথী প্রকল্পে সাম্প্রতিক শর্ত শিথিল হওয়ায় বহু যুবক-যুবতীর সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। কৃষক বন্ধু প্রকল্পের সুবিধাভোগীরাও এখন আবেদন করতে পারবেন—এটাই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।
২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, অন্তত মাধ্যমিক পাশ এবং পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হলে এই প্রকল্পে আবেদন করা সম্ভব। মাসিক ১৫০০ টাকার আর্থিক সহায়তা কর্মসংস্থানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে।
আবেদন করার আগে সব নথি যাচাই করে নিন এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন। নতুন নির্দেশ কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবেদন প্রক্রিয়া আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
