WB Yuba Sathi Scheme Update: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তা প্রদানকারী যুবসাথী প্রকল্পে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৬ সালে এই প্রকল্পের অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নতুন ওয়েবসাইটে স্থানান্তরিত হয়েছে। ফলে পুরনো লিংকে আবেদন করার চেষ্টা করলে আর কাজ হবে না। শুধু ওয়েবসাইট নয়, ডকুমেন্ট আপলোডের নিয়ম, ফাইল সাইজ, যাচাই প্রক্রিয়া—সবকিছুতেই এসেছে কড়াকড়ি।
যাঁরা নতুন করে আবেদন করতে চান বা পুরনো আবেদন আপডেট করতে চান, তাঁদের জন্য এই নতুন নিয়ম জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্পর্কিত পোস্ট
প্রতিমাসে 3000 একাউন্টে ঢুকবে কেন্দ্রের এই প্রকল্পে! কী কী শর্ত থাকতে হবে? দেখুন বিস্তারিত - PM Kishan Mandhan Scheme 2026
নতুন অফিসিয়াল ওয়েবসাইট কোনটি?
আগে আবেদন করা হতো apas.wb.gov.in পোর্টালের মাধ্যমে। এখন সেই সাইট আর কার্যকর নয়।
বর্তমানে যুবসাথী প্রকল্পের জন্য একমাত্র বৈধ পোর্টাল হলো:
এই ওয়েবসাইট থেকেই রেজিস্ট্রেশন, লগইন, আবেদনপত্র পূরণ, ডকুমেন্ট আপলোড এবং স্ট্যাটাস চেক—সবকিছু করতে হবে।
ডকুমেন্ট আপলোডে বড় পরিবর্তন: Self-Attested বাধ্যতামূলক
নতুন নির্দেশিকায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে নথিপত্র আপলোডের ক্ষেত্রে।
আগে অনেকেই অরিজিনাল কাগজ সরাসরি স্ক্যান করে আপলোড করতেন। এখন তা গ্রহণ করা হবে না।
সঠিক নিয়ম কী?
১. অরিজিনাল ডকুমেন্টের ফটোকপি বা জেরক্স করতে হবে
২. কপির নিচে নিজের সই করতে হবে
৩. “Self-Attested” লিখতে হবে
৪. তারপর সেই কাগজ স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে
যদি Self-Attested না থাকে, আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
আবেদন করার আগে নিচের শর্তগুলি যাচাই করা জরুরি।
| মানদণ্ড | শর্ত |
|---|---|
| বয়স | ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে |
| স্থায়ী বাসিন্দা | পশ্চিমবঙ্গের হতে হবে |
| কর্মসংস্থান | বর্তমানে বেকার হতে হবে |
| অন্যান্য সরকারি ভাতা | সরাসরি নগদ অনুদান গ্রহণকারী হলে অযোগ্য |
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিক্ষামূলক স্কলারশিপ পাওয়া থাকলে আবেদন করা যাবে। তবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কৃষক বন্ধু ইত্যাদি সরাসরি নগদ সহায়তা পেলে এই প্রকল্পে সাধারণত অনুমোদন দেওয়া হয় না।
পোর্টালে জন্মতারিখ প্রবেশ করালেই বয়স স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই হয়ে যায়।
আবেদন করার আগে কী কী স্ক্যান করে রাখবেন?
অনলাইনে আবেদন করার সময় নির্দিষ্ট ফরম্যাট ও সাইজ মেনে ফাইল আপলোড করতে হবে।
| নথি | ফরম্যাট | সর্বোচ্চ সাইজ |
|---|---|---|
| মাধ্যমিক অ্যাডমিট | ৩০০ KB | |
| মাধ্যমিক মার্কশিট | ৩০০ KB | |
| আধার কার্ড | ৩০০ KB | |
| ভোটার কার্ড | ৩০০ KB | |
| ব্যাংক পাসবুক | ৩০০ KB | |
| কাস্ট সার্টিফিকেট (যদি থাকে) | ৩০০ KB | |
| পাসপোর্ট ছবি | JPG/JPEG | ৫০ KB |
| সই | JPG/JPEG | ৫০ KB |
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আধারের সঙ্গে লিঙ্ক থাকা বাঞ্ছনীয়।
ধাপে ধাপে আবেদন পদ্ধতি
ধাপ ১: রেজিস্ট্রেশন
নতুন ওয়েবসাইটে গিয়ে “Apply Online” অপশনে ক্লিক করুন। মোবাইল নম্বর দিয়ে OTP ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন।
ধাপ ২: ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ
আধার ও মাধ্যমিক সার্টিফিকেট অনুযায়ী নাম, বাবার নাম ও জন্মতারিখ লিখুন। বিবাহিত মহিলারা প্রয়োজনে স্বামীর নাম ব্যবহার করতে পারেন।
ধাপ ৩: ঠিকানা ও শিক্ষা তথ্য
জেলা, ব্লক, থানা, পিন কোড নির্বাচন করুন। মাধ্যমিক বোর্ড, পাসের সাল ও রোল নম্বর দিন। উচ্চশিক্ষার তথ্য থাকলে তা যোগ করতে পারেন।
ধাপ ৪: পেশা নির্বাচন
Current Occupation-এ “Unemployed” নির্বাচন করুন।
ধাপ ৫: ডকুমেন্ট আপলোড
সব Self-Attested নথি নির্দিষ্ট সাইজে আপলোড করুন।
ধাপ ৬: ফাইনাল সাবমিট
সব তথ্য যাচাই করে “Ready to Submit” ক্লিক করুন। সফলভাবে জমা হলে একটি Application ID দেওয়া হবে।
এই আইডি ভবিষ্যতে স্ট্যাটাস চেকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আবেদন স্ট্যাটাস কীভাবে দেখবেন?
ওয়েবসাইটের “Check Status” অপশনে গিয়ে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর দিয়ে লগইন করলে আবেদন অবস্থান দেখা যাবে।
যেসব ভুল করলে আবেদন বাতিল হতে পারে
- Self-Attested ছাড়া ডকুমেন্ট আপলোড
- ভুল জন্মতারিখ
- ফাইল সাইজ নির্ধারিত সীমার বেশি
- একাধিকবার আবেদন
- অন্য নগদ অনুদান গ্রহণের তথ্য গোপন করা
শেষ কথা
যুবসাথী প্রকল্পে ২০২৬ সালের এই পরিবর্তন আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য করেছে। তবে নতুন ওয়েবসাইট ও আপডেটেড নিয়ম সম্পর্কে অবগত না থাকলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
শুধুমাত্র অফিসিয়াল পোর্টাল ব্যবহার করুন, সব ডকুমেন্ট Self-Attested করে আপলোড করুন এবং Application ID সংরক্ষণ করুন। সঠিকভাবে আবেদন করলে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।
