WB Yuba Sathi Scheme 2026: রাজ্য সরকারের বেকার যুবকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে চালু হওয়া যুবসাথী প্রকল্প ইতিমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিভিন্ন জেলায় শিবিরে ভিড়, অনলাইনে বিপুল আবেদন—সব মিলিয়ে এটি বর্তমানে অন্যতম আলোচিত সরকারি উদ্যোগ। প্রকল্প অনুযায়ী যোগ্য আবেদনকারীরা প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। তবে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—ফর্ম জমা দিলেও কি আবেদন বাতিল হতে পারে?

উত্তর হল, হ্যাঁ। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ না করলে বা তথ্য যাচাইয়ে অসঙ্গতি ধরা পড়লে আবেদন খারিজ হতে পারে। এই প্রতিবেদনে আমরা সহজ ভাষায় তুলে ধরছি কোন কোন কারণে আবেদন বাতিল হতে পারে, কী কী বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি এবং কীভাবে ভুল এড়ানো যায়।

যুবসাথী প্রকল্পের মূল লক্ষ্য

এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় থাকা যুবকদের সাময়িক আর্থিক সহায়তা প্রদান। অনেকেই পড়াশোনা শেষ করেও দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি না পাওয়ায় আর্থিক চাপে পড়েন। তাঁদের পাশে দাঁড়াতেই এই উদ্যোগ।

প্রকল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য

বিষয়তথ্য
মাসিক সহায়তা১৫০০ টাকা
ন্যূনতম যোগ্যতামাধ্যমিক পাশ
সর্বোচ্চ আর্থিক সহায়তা৫ বছরে ৯০,০০০ টাকা
আবেদন প্রক্রিয়াশিবির বা নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে
শুরু হওয়ার সম্ভাব্য সময়এপ্রিল থেকে

আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাব্য প্রধান কারণ

আবেদনকারীরা অনেক সময় ভেবে নেন, ফর্ম জমা দিলেই টাকা পাওয়া নিশ্চিত। কিন্তু প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী একাধিক স্তরে তথ্য যাচাই করা হয়। দুটি বড় বিষয় ধরা পড়লে আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

১. কর্মসংস্থানের প্রমাণ থাকলে

যদি কোনও আবেদনকারীর নামে প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) বা ইএসআই (ESI) সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে ধরে নেওয়া হয় তিনি কোনও না কোনও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। সে ক্ষেত্রে তাঁকে ‘বেকার’ হিসেবে গণ্য করা হবে না।

যাচাইয়ের ক্ষেত্রকী দেখা হয়
প্রভিডেন্ট ফান্ডনিয়মিত চাকরির প্রমাণ আছে কি না
ইএসআই রেকর্ডবেতনের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য সুবিধা পাচ্ছেন কি না
সরকারি ডেটাবেসকর্মরত সংক্রান্ত তথ্য মিলছে কি না

যদি এই তথ্যগুলির সঙ্গে আবেদনকারীর দেওয়া তথ্যের অমিল থাকে, তাহলে আবেদন সরাসরি বাতিল হতে পারে।

২. অন্য সরকারি ভাতা গ্রহণ করলে

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, যারা অন্য কোনও নিয়মিত সরকারি ভাতা পাচ্ছেন, তারা যুবসাথী প্রকল্পের সুবিধা নাও পেতে পারেন। তবে সরকারি স্কলারশিপ পেলে সমস্যা নেই—এটি আলাদা হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রাপ্ত সুবিধাযুবসাথীর যোগ্যতা
সরকারি স্কলারশিপপাওয়া যাবে
অন্য মাসিক ভাতাসম্ভবত অযোগ্য
সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পশর্তসাপেক্ষ

এই ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সরকারি যাচাইয়ের উপর।

আবেদন প্রক্রিয়ায় কীভাবে তথ্য যাচাই হয়

অনেকেই ভাবেন আবেদন কেবল কাগজপত্র জমা দিলেই শেষ। বাস্তবে কিন্তু একাধিক দফায় তথ্য যাচাই করা হয়—

  1. প্রাথমিক নথি যাচাই
  2. ডেটাবেস মিলিয়ে দেখা
  3. কর্মসংস্থান সংক্রান্ত তথ্য পরীক্ষা
  4. প্রয়োজন হলে স্থানীয় প্রশাসনিক তদন্ত

এই প্রক্রিয়ায় কোনও অসঙ্গতি ধরা পড়লে আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ভুল তথ্য দিলে কী হতে পারে?

আবেদনপত্রে ভুল তথ্য দেওয়া বা তথ্য গোপন করা গুরুতর বিষয়। এটি কেবল আবেদন বাতিলই নয়, ভবিষ্যতে সরকারি প্রকল্পে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে।

ভুলের ধরনসম্ভাব্য ফলাফল
চাকরি লুকিয়ে রাখাআবেদন বাতিল
আয়ের তথ্য গোপনআইনি জটিলতা
ভুয়ো নথি জমাভবিষ্যতে অযোগ্য ঘোষণা

তাই ফর্ম পূরণের সময় সঠিক ও যাচাইকৃত তথ্য দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

কর্মসংস্থান হলে কী করতে হবে?

প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী, আর্থিক সহায়তা নেওয়ার সময়ের মধ্যে যদি আবেদনকারী কোনও চাকরি পান, তাহলে তা সরকারকে জানাতে হবে। কারণ এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য কর্মহীন যুবকদের সাহায্য করা।

পরিস্থিতিকরণীয়
চাকরি পেলেনসংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো
আংশিক কর্মসংস্থানশর্ত অনুযায়ী যাচাই
চুক্তিভিত্তিক কাজনির্ভর করবে আয়ের উপর

চাকরি পাওয়ার পরও সুবিধা নিতে থাকলে তা আইনগত সমস্যার কারণ হতে পারে।

আবেদন করার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

১. সব নথি আপডেট আছে কি না
২. নাম, জন্মতারিখ ও ঠিকানা সরকারি নথির সঙ্গে মিলছে কি না
৩. ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিজের নামে ও সক্রিয় আছে কি না
৪. অন্য কোনও সরকারি ভাতা পাচ্ছেন কি না তা নিশ্চিত হওয়া

এছাড়া আবেদনপত্র জমা দেওয়ার আগে পুরো ফর্ম একবার ভালোভাবে পড়ে নেওয়া উচিত।

আবেদন বাতিল হলে কী করবেন?

আবেদন বাতিল হলে প্রথমেই কারণ জেনে নেওয়া জরুরি। অনেক সময় সামান্য নথিগত ত্রুটির কারণে আবেদন খারিজ হয়। প্রয়োজনে সংশোধিত নথি দিয়ে পুনরায় আবেদন করা যেতে পারে, যদি সরকার সেই সুযোগ দেয়।

ধাপকরণীয়
বাতিলের কারণ জানাঅফিস বা পোর্টালে যোগাযোগ
নথি সংশোধনপ্রয়োজনীয় আপডেট
পুনরায় আবেদননির্দেশিকা অনুযায়ী

যুবসাথী প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব

এই প্রকল্প কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় যুবকদের কিছুটা স্থিতি দেয়। মাসিক ১৫০০ টাকা বড় অঙ্ক না হলেও চাকরি খোঁজার সময় এটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে।

একজন আবেদনকারী সর্বোচ্চ পাঁচ বছরে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন। তবে শর্ত ভঙ্গ করলে এই সুবিধা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বিশেষ সতর্কতা

  • ভুয়ো তথ্য দিয়ে আবেদন করবেন না
  • মধ্যস্বত্বভোগীর সাহায্য নেওয়ার আগে সতর্ক থাকুন
  • অফিসিয়াল ঘোষণার বাইরে কোনও গুজবে বিশ্বাস করবেন না
  • নিয়মিত সরকারি আপডেট অনুসরণ করুন

 

যুবসাথী প্রকল্প বেকার যুবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থা। তবে আবেদন করলেই টাকা পাওয়া নিশ্চিত নয়। কর্মসংস্থানের প্রমাণ, অন্য সরকারি ভাতা গ্রহণ, বা ভুল তথ্য—এই ধরনের বিষয় ধরা পড়লে আবেদন বাতিল হতে পারে।

তাই আবেদন করার আগে সমস্ত তথ্য যাচাই করে, শর্তগুলি ভালোভাবে বুঝে এবং সততার সঙ্গে আবেদন করা জরুরি। সঠিক তথ্য ও নিয়ম মেনে চললে এই প্রকল্প অনেক যুবকের জন্য আর্থিক স্বস্তি বয়ে আনতে পারে।