WB Yuba Sathi Allowance Date 2026: রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে ‘যুব সাথী’ প্রকল্প। প্রথমে জানানো হয়েছিল যে এই প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা ১৫ আগস্ট থেকে উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছাতে শুরু করবে। তবে সাম্প্রতিক ঘোষণায় জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই ১ এপ্রিল থেকে এই প্রকল্পের টাকা প্রদান শুরু হবে। ফলে যোগ্য প্রার্থীদের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
এই প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন বেকার যুবক ও যুবতীরা মাসিক ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। এই সহায়তা টানা পাঁচ বছর পর্যন্ত দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তার একটি সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সম্পর্কিত পোস্ট
সুখবর! ফের কৃষক বন্ধুর টাকা! কবে পাবেন অনুদান? দেখুন বিস্তারিত - WB Krishak Bandhu Scheme Allowance
কারা পাবেন যুব সাথী প্রকল্পের সুবিধা
যুব সাথী প্রকল্প মূলত তাঁদের জন্য, যারা মাধ্যমিক উত্তীর্ণ এবং বর্তমানে স্থায়ী কোনও চাকরি বা উপার্জনের সঙ্গে যুক্ত নন। আবেদনকারীকে সক্রিয়ভাবে চাকরির সন্ধানে থাকতে হবে। অর্থাৎ যাঁরা কর্মসংস্থানের চেষ্টা করছেন কিন্তু এখনও কোনও নিয়মিত আয়ের উৎস পাননি, তাঁরাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্যগোষ্ঠী।
বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ থেকে ৪০ বছর। এই বয়সের মধ্যে থাকা তরুণ-তরুণীরা আবেদন করতে পারবেন। প্রার্থীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং নিজের নামে সক্রিয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে, যাতে সরাসরি অর্থ স্থানান্তর করা যায়।
কবে থেকে শুরু আবেদন প্রক্রিয়া
সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে, যুব সাথী প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে। আবেদন গ্রহণ চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত। নির্ধারিত এই সময়সীমার মধ্যেই আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে আবেদন গ্রহণ করা হবে না। ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন আবেদন নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। তাই শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে আগে আবেদন করা উত্তম।
কীভাবে আবেদন করতে হবে
এই প্রকল্পে শুধুমাত্র অফলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ কোনও অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ থাকছে না। সময় স্বল্পতার কারণে সরাসরি ক্যাম্পের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে একটি করে বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করা হবে। এই ক্যাম্পগুলি দুয়ারে সরকার শিবিরের আদলে পরিচালিত হবে। সম্ভাবনা রয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিডিও অফিসের নিকটবর্তী স্থানে এই ক্যাম্প বসবে।
আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট ক্যাম্পে উপস্থিত হয়ে নিজের প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হবে। সেখানে ফর্ম পূরণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাইয়ের পর আবেদন গ্রহণ করা হবে।
কারা আবেদন করতে পারবেন না
যুব সাথী প্রকল্পে আবেদন সংক্রান্ত কিছু নির্দিষ্ট বিধিনিষেধও রয়েছে। যারা ইতিমধ্যে অন্য কোনও সরকারি স্কিমের মাধ্যমে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন, তাঁরা এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন না।
বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা কৃষক বন্ধুর মতো প্রকল্প থেকে নিয়মিত টাকা পাচ্ছেন এমন ব্যক্তিরা এই প্রকল্পের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে যারা স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ, ঐকশ্রী স্কলারশিপ, কন্যাশ্রী বা রূপশ্রীর মতো এককালীন বা শিক্ষাভিত্তিক সহায়তা পেয়েছেন, তাঁরা যুব সাথীর জন্য আবেদন করতে পারবেন।
অর্থাৎ শিক্ষামূলক স্কিমের সুবিধাভোগীরা আবেদন করতে পারলেও নিয়মিত আর্থিক অনুদানভিত্তিক প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা আবেদন করতে পারবেন না।
কতদিন টাকা পাওয়া যাবে
এই প্রকল্পের অধীনে নির্বাচিত প্রার্থীরা টানা পাঁচ বছর পর্যন্ত মাসিক ১৫০০ টাকা পাবেন। অর্থাৎ বছরে ১৮,০০০ টাকা এবং পাঁচ বছরে মোট ৯০,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়া সম্ভব।
এই অর্থ সরাসরি উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হবে। ১ এপ্রিল থেকে অর্থ প্রদান শুরু হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। ফলে আবেদন যাচাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
কী কী নথি লাগতে পারে
যদিও আনুষ্ঠানিক নথির তালিকা বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবুও সম্ভাব্যভাবে নিম্নলিখিত নথিগুলি লাগতে পারে—
পরিচয়পত্র যেমন আধার কার্ড
বয়সের প্রমাণপত্র
শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ
বাসস্থানের প্রমাণপত্র
ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ
পাসপোর্ট সাইজ ছবি
আবেদন করতে যাওয়ার আগে সমস্ত নথির মূল কপি ও ফটোকপি সঙ্গে রাখা বাঞ্ছনীয়।
কেন এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ
বর্তমান সময়ে বেকারত্ব একটি বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কর্মসংস্থানের অভাব অনেককে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়। যুব সাথী প্রকল্প সেই পরিস্থিতিতে একটি সহায়ক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মাসিক আর্থিক সহায়তা তরুণ-তরুণীদের চাকরির প্রস্তুতি, পরীক্ষার ফি, প্রশিক্ষণ বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচে কাজে লাগতে পারে। যদিও এই অর্থ পূর্ণকালীন আয়ের বিকল্প নয়, তবে সাময়িক আর্থিক স্বস্তি দিতে পারে।
আবেদন করার আগে যা মাথায় রাখবেন
নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাম্পে ভিড় এড়াতে সময়মতো উপস্থিত হওয়া ভালো। ফর্ম পূরণের সময় সঠিক তথ্য প্রদান করতে হবে। ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
এছাড়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সক্রিয় আছে কিনা এবং কেওয়াইসি সম্পূর্ণ হয়েছে কিনা তা আগেই যাচাই করে নেওয়া উচিত।
যুব সাথী প্রকল্প রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ১ এপ্রিল থেকে টাকা প্রদানের ঘোষণায় আগ্রহ আরও বেড়েছে। তবে নির্ধারিত নিয়ম মেনে সময়মতো আবেদন করাই সবচেয়ে জরুরি। যোগ্য প্রার্থীরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে ১৫ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিকটবর্তী ক্যাম্পে গিয়ে আবেদন সম্পন্ন করুন।
