WB Social Pension Scheme Update: বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ফের জোর চর্চা শুরু হয়েছে বার্ধক্য ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে। বর্তমানে রাজ্যে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য চালু থাকা বার্ধক্য ভাতা মাসিক ১০০০ টাকা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহলে দাবি উঠেছে, এই ভাতার পরিমাণ ১৫০০ টাকায় উন্নীত করা হতে পারে। যদিও সরকারিভাবে এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি, তবুও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং প্রশাসনিক আলোচনার কারণে জল্পনা তুঙ্গে।

সম্পর্কিত পোস্ট
মমতা দিচ্ছে মাসে ৫,০০০ বা বছরে ৬৫,০০০ টাকা! এই প্রকল্প সম্পর্কে জানেন তো? - WB Govt Shramshree Scheme 2026সামাজিক প্রকল্পে বাড়তি জোর, নজরে প্রবীণরাও
গত কয়েক বছরে রাজ্য সরকার একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে আর্থিক বরাদ্দ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে নারীদের জন্য ভাতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন অস্থায়ী কর্মীদের সম্মানী বৃদ্ধি এবং নতুন কল্যাণমূলক প্রকল্প চালুর মতো পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—প্রবীণ নাগরিকদের জন্য চালু বার্ধক্য ভাতাতেও কি বাড়তি সহায়তা আসতে চলেছে?
বর্তমানে রাজ্যের বহু প্রবীণ নাগরিক এই ভাতার উপর নির্ভরশীল। বিশেষত যাঁদের নিয়মিত আয়ের কোনও উৎস নেই, তাঁদের জন্য এই ১০০০ টাকাই মাসিক ন্যূনতম ভরসা। ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে এই অর্থ পর্যাপ্ত নয় বলেই দাবি বহু মানুষের। সেই কারণেই ১৫০০ টাকা করার দাবি নতুন নয়, তবে ভোটের আগে এই আলোচনা নতুন গতি পেয়েছে।
কেন্দ্র-রাজ্য আর্থিক টানাপোড়েন বড় বাধা?
বার্ধক্য ভাতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে কেন্দ্র ও রাজ্যের আর্থিক সম্পর্ক। রাজ্য সরকারের দাবি, কেন্দ্রের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের বকেয়া অর্থ এখনও মেলেনি। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্তর থেকে দাবি করা হয়েছে, সামাজিক সুরক্ষার প্রকল্পগুলিতে রাজ্য চাইলে নিজস্ব তহবিল থেকেও বরাদ্দ বাড়াতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—যদি ভাতার পরিমাণ ১০০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা করা হয়, তাহলে অতিরিক্ত অর্থের জোগান কীভাবে হবে? অর্থ বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যের নিজস্ব রাজস্ব, কেন্দ্রীয় অংশীদারি এবং বাজেট পুনর্বিন্যাস—এই তিনটি পথের কোনও একটি বা একাধিক মিলিয়ে সমাধান খুঁজতে হবে।
বাস্তব চিত্র: বর্তমানে কী পাচ্ছেন প্রবীণরা?
বর্তমানে রাজ্যে যোগ্য প্রবীণ নাগরিকরা মাসিক ১০০০ টাকা বার্ধক্য ভাতা পাচ্ছেন। সাধারণত নির্দিষ্ট বয়সসীমা অতিক্রম এবং নির্দিষ্ট আয়সীমার মধ্যে থাকা ব্যক্তিরাই এই সুবিধা পান। আবেদন প্রক্রিয়াও নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ধাপ মেনে সম্পন্ন করতে হয়।
নিচে বর্তমান পরিস্থিতি সংক্ষেপে তুলে ধরা হল—
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|
| মাসিক ভাতার পরিমাণ | ১০০০ টাকা |
| সম্ভাব্য প্রস্তাবিত পরিমাণ | ১৫০০ টাকা (জল্পনা) |
| উপভোক্তা শ্রেণি | নির্দিষ্ট আয়সীমার প্রবীণ নাগরিক |
| সরকারিভাবে ঘোষণা | এখনও হয়নি |
| কার্যকর হওয়ার সম্ভাব্য সময় | নির্বাচনের আগে ঘোষণা হতে পারে বলে জল্পনা |
উল্লেখ্য, উপরোক্ত ১৫০০ টাকার তথ্যটি শুধুমাত্র সম্ভাবনা ও রাজনৈতিক আলোচনার ভিত্তিতে উঠে এসেছে। প্রশাসনিকভাবে এখনও তা নিশ্চিত নয়।
ভোটের আগে বড় ঘোষণা?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে জনমুখী একাধিক ঘোষণা আসতে পারে। অতীতে দেখা গেছে, নির্বাচনের আগে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে পরিবর্তন বা সম্প্রসারণের ঘোষণা করা হয়েছে। তাই বার্ধক্য ভাতা বৃদ্ধি নিয়েও অনেকে আশাবাদী।
তবে প্রশাসনিক সূত্রে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে—এই মুহূর্তে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। অর্থাৎ সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।
অর্থনৈতিক প্রভাব কী হতে পারে?
যদি ভাতা ১০০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা করা হয়, তাহলে প্রত্যেক উপভোক্তার ক্ষেত্রে মাসে ৫০০ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে। রাজ্যে লক্ষাধিক প্রবীণ নাগরিক এই প্রকল্পের আওতায় থাকায়, মোট ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। উদাহরণস্বরূপ, যদি ১০ লক্ষ উপভোক্তা থাকেন, তাহলে মাসিক অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াবে ৫০ কোটি টাকা। বার্ষিক হিসাবে তা ৬০০ কোটির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
এই অতিরিক্ত আর্থিক দায়ভার রাজ্যের পক্ষে বহন করা কতটা সহজ হবে, তা নির্ভর করবে সামগ্রিক বাজেট পরিস্থিতির উপর। ফলে শুধুমাত্র রাজনৈতিক সদিচ্ছা নয়, আর্থিক সক্ষমতাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
প্রবীণদের প্রত্যাশা
রাজ্যের বহু প্রবীণ নাগরিক মনে করছেন, বর্তমান বাজারদরে ১০০০ টাকা খুবই সীমিত সহায়তা। ওষুধ, চিকিৎসা, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস—সবকিছুর দাম বেড়েছে। তাই ১৫০০ টাকা হলে কিছুটা স্বস্তি মিলবে। বিশেষত গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী বয়স্কদের জন্য এই অতিরিক্ত অর্থ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে অনেকেই সতর্কভাবে বলছেন, শুধুমাত্র ঘোষণাই যথেষ্ট নয়—সময়মতো ভাতা প্রদান এবং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাও সমান জরুরি।
কী করবেন উপভোক্তারা?
বর্তমানে যাঁরা বার্ধক্য ভাতা পাচ্ছেন বা আবেদন করতে ইচ্ছুক, তাঁদের জন্য পরামর্শ—
- সরকারি পোর্টাল বা ব্লক অফিস থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করুন
- ভুয়ো খবর বা অননুমোদিত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বিশ্বাস করবেন না
- নতুন কোনও ঘোষণা এলে সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তা নিশ্চিত করুন
- ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও নথিপত্র হালনাগাদ রাখুন
বার্ধক্য ভাতা ১০০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা হবে কি না, তা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, সামাজিক চাহিদা এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা—এই তিনের সমন্বয়ে বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। ভোটের আগে কোনও বড় ঘোষণা আসতে পারে বলে জল্পনা থাকলেও, সরকারি বিজ্ঞপ্তিই শেষ কথা বলবে।
প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করা সময়ের দাবি। এখন নজর সবার—সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
