WB Lakshmir Bhandar Scheme Benefit: ভবিষ্যতের আর্থিক সুরক্ষা নিয়ে ভাবছেন? নিয়মিত অল্প অঙ্কের সঞ্চয় করে দীর্ঘমেয়াদে বড় তহবিল গড়ে তোলার ইচ্ছা অনেকেরই থাকে। কিন্তু কোথায় বিনিয়োগ করলে নিরাপত্তা ও লাভ—দু’টিই মিলবে, তা নিয়ে দ্বিধা থাকে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতীয় ডাক বিভাগের জনপ্রিয় জীবন বিমা নির্ভর সঞ্চয় প্রকল্প ‘গ্রাম সুরক্ষা যোজনা’ বহু মানুষের নজর কেড়েছে। এই স্কিমে নিয়মিত প্রিমিয়াম জমা রেখে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় যারা আছেন, তাঁদের জন্য এটি একটি স্থিতিশীল বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সম্পর্কিত পোস্ট
সুখবর! ফের কৃষক বন্ধুর টাকা! কবে পাবেন অনুদান? দেখুন বিস্তারিত - WB Krishak Bandhu Scheme Allowance
কী এই গ্রাম সুরক্ষা যোজনা
গ্রাম সুরক্ষা যোজনা মূলত ডাক বিভাগের একটি জীবন বিমা প্রকল্প, যেখানে সুরক্ষা এবং সঞ্চয়—দু’টি সুবিধাই একসঙ্গে পাওয়া যায়। অর্থাৎ এটি শুধুমাত্র বিনিয়োগ নয়, বরং জীবন বিমা কভারও প্রদান করে। পলিসি চলাকালীন সময়ে বিনিয়োগকারীর অকালমৃত্যু হলে মনোনীত ব্যক্তি নির্ধারিত বিমা অর্থ পেয়ে থাকেন। আবার মেয়াদ পূর্ণ হলে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বোনাস-সহ ফেরত দেওয়া হয়।
এই প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হল তুলনামূলক কম প্রিমিয়ামে দীর্ঘমেয়াদি বড় অঙ্কের অর্থ গড়ে তোলার সুযোগ। অনেকেই মাসিক প্রায় ১৫০০ টাকার মতো প্রিমিয়াম জমা রেখে ভবিষ্যতে ৩০ লক্ষ টাকার বেশি তহবিল পাওয়ার পরিকল্পনা করেন।
কারা এই স্কিমে বিনিয়োগ করতে পারবেন
এই প্রকল্পে সাধারণত ১৯ বছর থেকে ৫৫ বছর বয়সী ব্যক্তিরা বিনিয়োগ করতে পারেন। কম বয়সে বিনিয়োগ শুরু করলে দীর্ঘ মেয়াদে বেশি সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯ বছর বয়সে কেউ যদি দীর্ঘমেয়াদি পলিসি নেন, তাহলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রিমিয়াম জমা দিয়ে পরবর্তী সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পেতে পারেন।
বয়স অনুযায়ী প্রিমিয়ামের পরিমাণ সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে। ৫৫, ৫৮ বা ৬০ বছর মেয়াদি বিকল্প অনুযায়ী মাসিক প্রিমিয়াম ভিন্ন হতে পারে। ফলে বিনিয়োগের আগে নিকটবর্তী পোস্ট অফিসে যোগাযোগ করে সঠিক হিসাব জেনে নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
কত টাকা বিমা কভার পাওয়া যায়
গ্রাম সুরক্ষা যোজনায় সাধারণত ন্যূনতম ১০,০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমা কভার নেওয়া যায়। বিনিয়োগকারী নিজের আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী কভার বেছে নিতে পারেন। বিমা কভারের অঙ্ক যত বেশি হবে, প্রিমিয়ামও সেই অনুযায়ী বাড়বে।
এই স্কিমে বিনিয়োগের সময় মাসিক, ত্রৈমাসিক, অর্ধ-বার্ষিক বা বার্ষিক ভিত্তিতে প্রিমিয়াম দেওয়ার সুযোগ থাকে। ফলে যারা মাসিক কিস্তিতে স্বচ্ছন্দ নন, তাঁরা অন্য বিকল্পও বেছে নিতে পারেন।
মেয়াদপূর্তিতে কত টাকা পাওয়া যায়
মেয়াদপূর্তিতে পাওয়া অর্থ নির্ভর করে পলিসির মেয়াদ, প্রিমিয়ামের পরিমাণ এবং প্রযোজ্য বোনাসের উপর। বিভিন্ন মেয়াদি বিকল্পে আনুমানিক ৩০ লক্ষ টাকার বেশি পর্যন্ত তহবিল গড়ে তোলার সম্ভাবনা থাকে বলে জানানো হয়। যেমন ৫৫ বছর, ৫৮ বছর বা ৬০ বছর পর্যন্ত নির্দিষ্ট মেয়াদ ধরে প্রিমিয়াম জমা দিলে, মেয়াদ শেষে কয়েক লক্ষ টাকা ফেরত পাওয়া যায়।
এই প্রকল্পে দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগ করলে চক্রবৃদ্ধি হারে বোনাস যুক্ত হয়ে মোট পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে সঠিক অঙ্ক জানতে অফিসিয়াল হিসাব প্রয়োজন।
৮০ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা সুবিধা
গ্রাম সুরক্ষা যোজনার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল, পলিসি চলাকালীন ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত সুরক্ষা সুবিধা বজায় থাকতে পারে। যদি পলিসিধারী মেয়াদপূর্তির আগেই মারা যান, তাহলে মনোনীত ব্যক্তি বিমার অর্থ পান। এতে পরিবার আর্থিক সুরক্ষা পায়।
অন্যদিকে, নির্ধারিত সময় পর্যন্ত পলিসি চালু থাকলে এবং বিনিয়োগকারী জীবিত থাকলে মেয়াদপূর্তির পর পুরো অর্থ তাঁর অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়।
ঋণ সুবিধা ও সমর্পণ নিয়ম
এই প্রকল্পের আরেকটি সুবিধা হল ঋণ নেওয়ার সুযোগ। সাধারণত পলিসি চালুর চার বছর পর থেকে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ঋণ নেওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ জরুরি প্রয়োজনে পলিসির বিপরীতে অর্থ ধার করা সম্ভব।
এছাড়া তিন বছর পর পলিসি সমর্পণের সুযোগ থাকে। তবে পাঁচ বছরের আগে সমর্পণ করলে সম্পূর্ণ বোনাস সুবিধা নাও পাওয়া যেতে পারে। তাই মাঝপথে বন্ধ করার আগে ভালোভাবে ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
অল্প সঞ্চয়ে বড় তহবিল গড়ার সুযোগ
বর্তমান সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগের খোঁজে অনেকেই সরকারি স্কিমের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে নিয়মিত ছোট অঙ্কের সঞ্চয়ের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি বড় অঙ্কের ফান্ড তৈরি করার ধারণা মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে আকর্ষণীয়। মাসে প্রায় ১৫০০ টাকার মতো সঞ্চয় দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে গেলে ভবিষ্যতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পাওয়া সম্ভব হতে পারে।
অনেকেই বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত আর্থিক সহায়তার টাকা সঞ্চয় করে এমন দীর্ঘমেয়াদি স্কিমে বিনিয়োগের কথা ভাবেন। তবে ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থা ও ঝুঁকি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
বিনিয়োগের আগে যা জানা জরুরি
যে কোনও বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নিয়ম, শর্ত, বোনাস হার এবং প্রিমিয়াম কাঠামো ভালোভাবে বুঝে নেওয়া প্রয়োজন। গ্রাম সুরক্ষা যোজনা জীবন বিমা নির্ভর স্কিম হওয়ায় এর সঙ্গে বিমা শর্ত যুক্ত থাকে। ফলে শুধুমাত্র লাভের অঙ্ক দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে, সম্পূর্ণ তথ্য যাচাই করা জরুরি।
নিকটবর্তী পোস্ট অফিসে গিয়ে বা সরকারি সূত্রে সঠিক তথ্য জেনে নেওয়া উচিত। সময়ের সঙ্গে নিয়ম ও সুবিধায় পরিবর্তন আসতে পারে। তাই আপডেট তথ্যের ভিত্তিতেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া শ্রেয়।
গ্রাম সুরক্ষা যোজনা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনায় একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নিয়মিত সঞ্চয়, জীবন বিমা সুরক্ষা এবং মেয়াদ শেষে বড় অঙ্কের অর্থ—এই তিনের সমন্বয়ে এটি বহু মানুষের কাছে আকর্ষণীয়। তবে ব্যক্তিগত আর্থিক লক্ষ্য, আয় এবং ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষমতা বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পিত সঞ্চয়ই হতে পারে সবচেয়ে বড় শক্তি।
