WB Govt Shramshree Scheme 2026: রাজ্যে ফের একটি নতুন আর্থিক সহায়তা প্রকল্প ঘিরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিক ও কর্মহীন হয়ে রাজ্যে ফেরা শ্রমজীবী মানুষের জন্য মাসিক ৫০০০ টাকা ভাতা দেওয়ার ঘোষণা সামনে আসতেই বহু মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। এই প্রকল্পের নাম শ্রমশ্রী। ঘোষণার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে—কারা এই টাকা পাবেন, কতদিন পর্যন্ত দেওয়া হবে, আবেদন করতে কী কী লাগবে এবং কোথায় আবেদন করতে হবে?
নিচে ধাপে ধাপে জানানো হল শ্রমশ্রী প্রকল্পের সম্ভাব্য সুবিধা, যোগ্যতা ও আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।
সম্পর্কিত পোস্ট
বাড়তে চলেছে বার্ধক্য ভাতা? ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকার জল্পনায় সরগরম রাজ্য রাজনীতি - WB Social Pension Scheme Update
শ্রমশ্রী প্রকল্প কী?
শ্রমশ্রী হল এমন একটি কল্যাণমূলক উদ্যোগ, যার লক্ষ্য মূলত সেই সব পরিযায়ী শ্রমিকদের আর্থিক সুরক্ষা দেওয়া, যাঁরা অন্য রাজ্যে কাজ হারিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ফিরে এসেছেন বা কাজের অভাবে নিজ রাজ্যে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন। কর্মসংস্থানের অভাবে সাময়িক আর্থিক সংকটে পড়া শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতেই এই প্রকল্প চালুর কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
এই প্রকল্পের অধীনে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে মাসিক ভাতা, এককালীন অনুদান এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কী কী সুবিধা মিলতে পারে?
শ্রমশ্রী প্রকল্পের আওতায় একাধিক সুবিধার কথা জানানো হয়েছে। সেগুলি সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরা হল—
| সুবিধার ধরন | কী দেওয়া হবে | সময়কাল |
|---|---|---|
| মাসিক আর্থিক সহায়তা | ৫,০০০ টাকা | সর্বোচ্চ ১২ মাস (কাজ না পাওয়া পর্যন্ত) |
| এককালীন অনুদান | ৫,০০০ টাকা | রাজ্যে ফেরার পর একবার |
| স্কিল ট্রেনিং | দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ | প্রয়োজন অনুযায়ী |
| জব কার্ড সুবিধা | কর্মসংস্থানের সুযোগ | সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের আওতায় |
ঘোষণা অনুযায়ী, যাঁরা বাইরে থেকে কাজ হারিয়ে বাংলায় ফিরেছেন, তাঁরা টানা এক বছর পর্যন্ত মাসে ৫০০০ টাকা পেতে পারেন, যদি নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হয়। এছাড়া রাজ্যে ফিরে আসা শ্রমিকদের এককালীন ৫০০০ টাকার অনুদান দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
কারা পাবেন এই সুবিধা?
এই প্রকল্পের সম্ভাব্য সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—
- আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
- তাঁকে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে অন্য রাজ্যে কাজ করার প্রমাণ দিতে হতে পারে।
- কাজ হারিয়ে রাজ্যে ফেরার তথ্য নথিভুক্ত থাকতে হবে।
- বৈধ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে, যাতে সরাসরি অর্থ স্থানান্তর করা যায়।
ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ২২ লক্ষেরও বেশি পরিযায়ী শ্রমিক এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারেন। তবে ভবিষ্যতে নতুন করে নাম নথিভুক্ত করা শ্রমিকরাও সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
কোথায় এবং কীভাবে আবেদন করবেন?
শ্রমশ্রী প্রকল্পের জন্য আলাদা একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করার কথা বলা হয়েছে, যেখানে সরাসরি আবেদন করা যাবে। পাশাপাশি, আগে থেকে চালু থাকা পরিযায়ী শ্রমিক নিবন্ধন পোর্টালেও আবেদন গ্রহণের সুযোগ থাকতে পারে।
আবেদন প্রক্রিয়া সম্ভাব্যভাবে নিম্নরূপ হতে পারে—
- নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালে প্রবেশ
- মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন
- ব্যক্তিগত তথ্য ও কর্মসংক্রান্ত তথ্য পূরণ
- প্রয়োজনীয় নথি আপলোড
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য প্রদান
- চূড়ান্ত সাবমিট
এছাড়া রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক কর্মসূচির মাধ্যমে ব্লক বা পঞ্চায়েত স্তরেও তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। যাঁদের নাম এখনও নথিভুক্ত হয়নি, তাঁরা নতুন পোর্টালে নিজের তথ্য আপডেট করার সুযোগ পেতে পারেন।
কী কী নথি লাগতে পারে?
আবেদন করার সময় সম্ভাব্যভাবে নিম্নলিখিত নথি প্রয়োজন হতে পারে—
- আধার কার্ড বা ভোটার কার্ড
- শ্রমিক হিসেবে কাজ করার প্রমাণপত্র (চুক্তিপত্র, নিয়োগপত্র বা সংশ্লিষ্ট সনদ)
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাসবুক বা ডিটেলস
- পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণ
নথি আপলোডের ক্ষেত্রে তথ্যের সঠিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
স্কিল ট্রেনিং ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান
শুধুমাত্র আর্থিক সহায়তা নয়, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ প্রকল্পের মাধ্যমে শ্রমিকদের নতুন কাজের উপযোগী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ হলে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
এছাড়া নির্দিষ্ট কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় জব কার্ড প্রদান করা হলে, রাজ্যের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
কতদিন মিলবে ভাতা?
মাসিক ৫০০০ টাকার ভাতা সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত দেওয়া হতে পারে, অথবা আবেদনকারী নতুন কাজ না পাওয়া পর্যন্ত। তবে চূড়ান্ত নিয়মাবলি সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্পষ্ট হবে। তাই নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সরকারি নির্দেশের অপেক্ষা করা প্রয়োজন।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
- শুধুমাত্র সরকারি পোর্টালেই আবেদন করুন
- সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত অযাচিত লিঙ্কে ক্লিক করবেন না
- আবেদন করার আগে সব নথি যাচাই করে নিন
- ভাতা সংক্রান্ত আপডেটের জন্য নিয়মিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করুন
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য
বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের প্রকল্প ঘোষণা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। সামাজিক সুরক্ষা ও আর্থিক সহায়তা প্রকল্পগুলি সাধারণ মানুষের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। ফলে শ্রমশ্রী প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা বৃহৎ শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, ঘোষণার পর চূড়ান্ত নিয়মাবলি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া প্রকাশ পাওয়াই আসল বিষয়। সরকারি গেজেট বা অফিসিয়াল নোটিফিকেশন প্রকাশের পরেই প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো পরিষ্কার হবে।
শ্রমশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে পরিযায়ী ও কর্মহীন শ্রমিকদের মাসিক ৫০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা বহু মানুষের কাছে স্বস্তির খবর। পাশাপাশি এককালীন অনুদান ও প্রশিক্ষণের সুযোগ এই প্রকল্পকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলতে পারে।
তবে আবেদন করার আগে এবং ভাতা সংক্রান্ত তথ্য জানার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সরকারি সূত্রের উপর নির্ভর করাই শ্রেয়। সঠিক নথি, সঠিক তথ্য এবং সঠিক পদ্ধতি মেনে আবেদন করলে তবেই এই সুবিধা পাওয়া সম্ভব হবে।
