WB Govt Matriyan Scheme: পশ্চিমবঙ্গে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার কমাতে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চালু রয়েছে ‘মাতৃযান’ প্রকল্প। জরুরি প্রসবকালীন পরিস্থিতিতে গর্ভবতী মহিলাদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই পরিষেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একটি ফোন কলেই নিকটবর্তী অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছে যায় বাড়ির দরজায়—ফলে পরিবহন সমস্যার কারণে আর চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতে হয় না।

রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অন্যতম মানবিক উদ্যোগ হিসেবে মাতৃযান প্রকল্পকে দেখা হয়। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলে যেখানে রাতের বেলা বা খারাপ আবহাওয়ায় হাসপাতাল পৌঁছানো কঠিন, সেখানে এই পরিষেবা বহু পরিবারের ভরসা।

সম্পর্কিত পোস্ট

সুখবর! কন্যা সন্তান থাকলে ৬৫ লাখ পেতে পারেন! কেন্দ্র সরকারের এই প্রকল্পের সুবিধা নিন - Central Govt Sukanya Yojna 2026

রাজ্যবাসীর জন্য সুসংবাদ! দারুণ প্রকল্পে ফোন করলেই বিরাট সুবিধা, দেখুন বিস্তারিত - WB Govt Matriyan Scheme

মাতৃযান প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

বিষয়তথ্য
প্রকল্পের নামমাতৃযান প্রকল্প
চালু হয়েছেপশ্চিমবঙ্গ
সূচনা২০১১ সাল
পরিচালনাকারী দপ্তরস্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর, পশ্চিমবঙ্গ সরকার
কাদের জন্যগর্ভবতী মহিলা ও নবজাতক
পরিষেবা নম্বর১০২
বর্তমান অবস্থাসক্রিয় ও চালু

এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের গর্ভবতী মহিলারা জরুরি সময়ে বিনামূল্যে অথবা স্বল্প খরচে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা পেয়ে থাকেন।

মাতৃযান প্রকল্প কী এবং কেন চালু করা হয়?

২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-র উদ্যোগে এই প্রকল্প চালু হয়। লক্ষ্য ছিল একটাই—প্রসবের সময় যাতে কোনও মা পরিবহন সমস্যার কারণে বিপদের মুখে না পড়েন।

গ্রামের অনেক পরিবার আগে ব্যক্তিগত গাড়ি বা ভাড়ার গাড়ির অভাবে হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি করতেন। অনেক সময় সেই দেরিই বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াত। এই বাস্তব সমস্যার সমাধান করতেই চালু হয় ১০২ নম্বরের মাতৃযান পরিষেবা।

কীভাবে কাজ করে এই পরিষেবা?

১. গর্ভবতী মহিলা বা তাঁর পরিবারের সদস্য ১০২ নম্বরে ফোন করেন।
২. কল সেন্টার থেকে নিকটবর্তী মাতৃযান অ্যাম্বুলেন্সকে জানানো হয়।
৩. প্রশিক্ষিত কর্মী-সহ অ্যাম্বুলেন্স নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে যায়।
৪. গর্ভবতী মাকে নিরাপদে নিকটবর্তী সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়।
৫. প্রয়োজনে প্রসবের পর বাড়ি ফেরার ব্যবস্থাও করা হয়।

অ্যাম্বুলেন্সে থাকে প্রাথমিক জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষিত প্যারামেডিক কর্মী, যাতে পথে কোনও জটিলতা তৈরি হলে তা সামাল দেওয়া যায়।

প্রধান বৈশিষ্ট্য

  • ২৪ ঘণ্টা পরিষেবা
  • গর্ভবতী মা ও নবজাতকের জন্য বিশেষ সুবিধা
  • জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামসহ অ্যাম্বুলেন্স
  • প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী উপস্থিতি
  • প্রসব-পরবর্তী বাড়ি ফেরার সুবিধা
  • গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব

এই পরিষেবার ফলে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হয়, যা মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু কমাতে বড় ভূমিকা রাখে।

কারা সুবিধা পাবেন?

নিচের শর্ত পূরণ করলে মাতৃযান পরিষেবা পাওয়া যায়—

  • আবেদনকারী পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হতে হবে
  • গর্ভবতী মহিলা হতে হবে
  • সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিবন্ধিত থাকতে হবে
  • প্রসবকালীন বা প্রসব-পরবর্তী সময়ে হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হতে হবে

এখানে নির্দিষ্ট কোনও বয়সসীমা নেই। যেকোনও গর্ভবতী মহিলা এই সুবিধা নিতে পারেন।

মাতৃযান প্রকল্পের উপকারিতা

১. সময়মতো চিকিৎসা

জরুরি অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো যায়, ফলে জটিলতা কমে।

২. অর্থনৈতিক সুরাহা

দরিদ্র পরিবারগুলিকে ব্যক্তিগত গাড়ি ভাড়া করতে হয় না।

৩. নবজাতকের সুরক্ষা

প্রসবের পরপরই চিকিৎসা পাওয়ায় শিশুর ঝুঁকি কমে।

৪. গ্রামীণ এলাকায় বিশেষ সহায়তা

দুর্গম অঞ্চলেও পরিষেবা পৌঁছে যায়।

৫. মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হ্রাস

সময়ে চিকিৎসা পাওয়ার ফলে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

মাতৃযান অ্যাম্বুলেন্স রেট (যদি প্রযোজ্য হয়)

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী অনেক ক্ষেত্রে পরিষেবা বিনামূল্যে দেওয়া হয়। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দূরত্বভিত্তিক চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ—

যাত্রা দূরত্বসম্ভাব্য চার্জ
১০ কিমি পর্যন্ত১৫০ টাকা
১০–২০ কিমি২৫০ টাকা
২০–৩০ কিমি৩৫০ টাকা
৩০ কিমির বেশি৪৫০ টাকা

তবে প্রকৃত চার্জ স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নির্দেশিকা অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। জরুরি প্রসবকালীন ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় পরিষেবা বিনামূল্যে দেওয়া হয়।

কীভাবে পরিষেবা পাবেন?

  • গর্ভাবস্থায় নিকটবর্তী সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নাম নথিভুক্ত করুন।
  • প্রসবের সম্ভাব্য তারিখের আগে স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন।
  • জরুরি পরিস্থিতিতে ১০২ নম্বরে কল করুন।

পরিষেবা পেতে কোনও আলাদা অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া নেই। ফোন কলই যথেষ্ট।

স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এই প্রকল্পের প্রভাব

মাতৃযান শুধু একটি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা নয়, এটি রাজ্যের মাতৃস্বাস্থ্য কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো গেলে—

  • জটিল প্রসবের ঝুঁকি কমে
  • নবজাতকের তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা সম্ভব হয়
  • উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়

এই প্রকল্প চালুর পর বহু জেলায় মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমেছে বলে স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

মাতৃযান প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ। একটি ফোন কলেই অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা পাওয়া যায়—এই সহজ ব্যবস্থাই বহু মা ও শিশুর জীবন রক্ষা করছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলির জন্য এটি এক বড় সহায়তা।

যদি আপনার পরিবারে কেউ গর্ভবতী হন, তবে আগে থেকেই নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিবন্ধন করে রাখুন এবং জরুরি সময়ে ১০২ নম্বরে যোগাযোগ করুন। সময়মতো চিকিৎসাই নিরাপদ মাতৃত্বের চাবিকাঠি।

আরও পড়ুন

মমতা দিচ্ছে ৫ লক্ষ টাকা ঋণ! গ্যারান্টার হবে সরকার, সঙ্গে ২৫০০০ ভর্তুকি - WB Govt BCC Scheme 2026