WB Govt K3 Scheme Update 2026: আজকের দিনে নারী-পুরুষ সমতার কথা বলা হলেও বাস্তবে এখনও বহু জায়গায় মেয়েদের শিক্ষার পথে বাধা তৈরি হয়। অল্প বয়সে বিয়ে, আর্থিক সংকট, সামাজিক চাপে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়া—এই সমস্যাগুলির সমাধান করতেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০১৩ সালে চালু করে কন্যাশ্রী প্রকল্প।
৮ মার্চ ২০১৩-তে সূচনা হওয়া এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য—১৮ বছরের আগে যেন কোনও মেয়ের বিয়ে না হয় এবং অর্থের অভাবে যেন পড়াশোনা বন্ধ না হয়ে যায়। সময়ের সঙ্গে এই প্রকল্প জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরেও স্বীকৃতি পেয়েছে।
সম্পর্কিত পোস্ট
ব্যাঙ্কে টাকা নেই? তবুও পাবেন ১০,০০০ টাকা! কীভাবে তুলতে পারবেন - PM Jan Dhan Scheme 2026
কন্যাশ্রী প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রকল্পের নাম | কন্যাশ্রী প্রকল্প |
| রাজ্য | পশ্চিমবঙ্গ |
| সূচনাকাল | ৮ মার্চ ২০১৩ |
| লক্ষ্য | বাল্যবিবাহ রোধ ও মেয়েদের শিক্ষায় উৎসাহ |
| আবেদনকারীর লিঙ্গ | শুধুমাত্র মেয়ে |
| বয়সসীমা | ১৩–১৮ বছর (বিশেষ ক্ষেত্রে উচ্চতর স্তর) |
| সুবিধার ধরন | K1, K2, K3 বৃত্তি |
কন্যাশ্রী প্রকল্প কী?
এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি, যার মাধ্যমে স্কুল ও কলেজপড়ুয়া মেয়েদের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। লক্ষ্য হলো—
- স্কুলে উপস্থিতি বাড়ানো
- ড্রপআউট কমানো
- বাল্যবিবাহ রোধ
- উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি
প্রকল্পের উদ্দেশ্য
১. বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ – ১৮ বছরের আগে বিয়ে না হয় তা নিশ্চিত করা।
২. শিক্ষায় ধারাবাহিকতা – আর্থিক অভাবে পড়াশোনা বন্ধ না হয়।
৩. সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি – মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে পরিবারকে সচেতন করা।
৪. দক্ষতা উন্নয়ন – প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে আত্মনির্ভরতা গড়ে তোলা।
কন্যাশ্রী প্রকল্পের সুবিধা (K1, K2, K3)
🔹 K1 – বার্ষিক বৃত্তি
- পরিমাণ: ₹১,০০০ (প্রতি বছর)
- বয়স: ১৩–১৮ বছর
- শর্ত: স্কুলে নিয়মিত অধ্যয়নরত ও অবিবাহিতা হতে হবে
🔹 K2 – এককালীন অনুদান
- পরিমাণ: ₹২৫,০০০
- বয়স: ১৮ পূর্ণ হলে
- শর্ত: অবিবাহিতা ও পড়াশোনা চালু থাকতে হবে
🔹 K3 – উচ্চশিক্ষা বৃত্তি
- বিজ্ঞান বিভাগ: ₹২,৫০০ প্রতি মাসে
- কলা ও বাণিজ্য বিভাগ: ₹২,০০০ প্রতি মাসে
- শর্ত: স্নাতক পর্যায়ে অন্তত ৪৫% নম্বর
কারা আবেদন করতে পারবেন?
- পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা
- ১৩–১৮ বছর বয়সী অবিবাহিতা ছাত্রী
- সরকার বা সরকার অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত
- স্নাতক পর্যায়ে K3-এর জন্য নির্দিষ্ট নম্বর থাকতে হবে
বিশেষ ক্ষেত্রে শারীরিক প্রতিবন্ধী বা অনাথ ছাত্রীদের ক্ষেত্রে আয় সংক্রান্ত শর্ত শিথিল হতে পারে।
কারা সুবিধা পাবেন না?
- বিবাহিত মেয়েরা
- ১৩ বছরের কম বয়সী ছাত্রী
- রাজ্যের বাইরে বসবাসকারী আবেদনকারী
প্রয়োজনীয় নথিপত্র
আবেদন করার সময় সাধারণত যে কাগজপত্র প্রয়োজন হয়:
- জন্ম সনদ
- আধার কার্ড
- রেশন কার্ড
- ব্যাঙ্ক পাসবইয়ের কপি
- আয় শংসাপত্র
- আবাসিক প্রমাণপত্র
- শিক্ষাগত প্রমাণপত্র
- অবিবাহিত থাকার ঘোষণাপত্র
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি
আবেদনকারীর নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক।
আবেদন করার পদ্ধতি
১. কন্যাশ্রী প্রকল্পের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান।
২. নতুন রেজিস্ট্রেশন অপশনে ক্লিক করুন।
৩. প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে সাবমিট করুন।
৪. আবেদনপত্র স্কুলে জমা দিয়ে প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর সংগ্রহ করুন।
৫. একটি অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ সংরক্ষণ করুন।
অনলাইনে আবেদন জমা হলে একটি আইডি নম্বর মোবাইলে পাঠানো হয়। সেটিই ভবিষ্যতে স্ট্যাটাস ট্র্যাক করার জন্য প্রয়োজন।
স্ট্যাটাস চেক করার উপায়
- অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে “Track Application” নির্বাচন করুন
- বছর, স্কিমের ধরন, আবেদন আইডি ও জন্মতারিখ লিখুন
- সাবমিট করলে বর্তমান স্ট্যাটাস দেখা যাবে
অনুমোদন হলে অর্থ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।
রিনিউয়াল ও আপডেট প্রক্রিয়া
- K1 বৃত্তির ক্ষেত্রে প্রতি বছর স্কুল কর্তৃপক্ষ রিনিউয়াল করে
- ১৮ বছর পূর্ণ হলে K2-এর জন্য আপগ্রেড করা যায়
- K2 পেতে নতুন আবেদনপত্র জমা দিতে হয়
- K3-এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শিক্ষাগত মানদণ্ড পূরণ করতে হয়
কেন এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ?
কন্যাশ্রী শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি একটি সামাজিক পরিবর্তনের উদ্যোগ। এর মাধ্যমে—
- স্কুলে মেয়েদের উপস্থিতি বেড়েছে
- বাল্যবিবাহের হার কমেছে
- উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে
- মেয়েদের আত্মবিশ্বাস ও আর্থিক সচেতনতা বেড়েছে
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
- আবেদন ফর্মে নামের বানান সঠিক রাখতে হবে
- বৈধ মোবাইল নম্বর দিতে হবে
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর নির্ভুলভাবে লিখতে হবে
- প্রয়োজনীয় স্থানে স্বাক্ষর দিতে ভুলবেন না
হেল্পলাইন
যে কোনও তথ্যের জন্য সরকারি হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে:
📞 0330-23373846
কন্যাশ্রী প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গের মেয়েদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অল্প বয়সে বিয়ে রোধ এবং উচ্চশিক্ষায় উৎসাহ দেওয়ার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।
যে সকল পরিবার মেয়েদের পড়াশোনা নিয়ে আর্থিক চাপে আছেন, তাঁদের জন্য কন্যাশ্রী একটি বড় সহায়তা হতে পারে। সঠিকভাবে আবেদন ও নিয়ম মেনে চললে মেয়েদের ভবিষ্যৎ গঠনে এই প্রকল্প কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
