PM Kishan Mandhan Scheme 2026: কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প চালু করে—প্রধানমন্ত্রী কিষাণ মানধন যোজনা। এই পেনশন স্কিমের লক্ষ্য হলো ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বৃদ্ধ বয়সে ন্যূনতম মাসিক আয় নিশ্চিত করা। নিয়ম মেনে অবদান রাখলে নিদিষ্ট বয়সের পর থেকে প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা পেনশন পাওয়া যায়।
এই প্রতিবেদনে জানানো হলো—কিষাণ মানধন যোজনা কী, কারা যোগ্য, কত টাকা জমা দিতে হয় এবং কীভাবে আবেদন করবেন।
সম্পর্কিত পোস্ট
ধনী হবেনই! এই ৫ কৌশলে ধনদৌলত আসবে ঝড়ের গতিতে, দেখুন বিস্তারিত - 5 Tips To Became Rich 2026
প্রধানমন্ত্রী কিষাণ মানধন যোজনা কী?
প্রধানমন্ত্রী কিষাণ মানধন যোজনা একটি স্বেচ্ছাসেবী ও অবদানভিত্তিক পেনশন স্কিম। এতে কৃষক নিজে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা মাসে জমা করেন এবং সমপরিমাণ অর্থ সরকার তাঁর নামে অবদান রাখে। এই যৌথ বিনিয়োগের ভিত্তিতেই নিদিষ্ট পূর্ণ হলে কৃষককে আজীবন মাসিক ৩০০০ টাকা পেনশন দেওয়া হয়।
এটি মূলত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য তৈরি, যাতে বার্ধক্যে তাঁদের ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তা থাকে।
কারা এই স্কিমের সুবিধা পাবেন?
কিষাণ মানধন যোজনায় যোগ দেওয়ার জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট যোগ্যতা রয়েছে—
বয়সসীমা
- আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।
জমির পরিমাণ
- কৃষকের নিজস্ব চাষযোগ্য জমি ২ হেক্টরের বেশি হলে তিনি এই স্কিমের আওতায় আসবেন না।
অন্যান্য শর্ত
- আয়করদাতা হলে এই স্কিমে আবেদন করা যাবে না।
- ইপিএফ, এনপিএস, ইএসআইসি বা অন্য কোনো সরকারি পেনশন প্রকল্পের সদস্য হলে যোগ্যতা থাকবে না।
অর্থাৎ, এই প্রকল্প বিশেষভাবে তাঁদের জন্য, যাঁদের নিয়মিত পেনশন সুরক্ষা নেই এবং যাঁরা ক্ষুদ্র পরিসরে কৃষিকাজ করেন।
কত টাকা জমা দিতে হয়?
এই স্কিমে জমার পরিমাণ নির্ভর করে আবেদনকারীর বয়সের উপর। যত কম বয়সে যোগ দেবেন, তত কম মাসিক কিস্তি দিতে হবে।
উদাহরণ
- যদি কেউ ১৮ বছর বয়সে যোগ দেন, তাঁকে মাসে প্রায় ৫৫ টাকা জমা করতে হবে।
- যদি ৪০ বছর বয়সে যোগ দেন, তবে মাসিক অবদান প্রায় ২০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
এই অবদান ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত নিয়মিত জমা দিতে হবে। এরপর থেকে মাসে ৩০০০ টাকা পেনশন শুরু হবে।
৬০ বছর পর কী সুবিধা মিলবে?
কৃষক ৬০ বছর পূর্ণ করলে—
- প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা পেনশন পাবেন।
- এই পেনশন আজীবন চলবে।
- কৃষকের মৃত্যুর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে স্ত্রী বা স্বামী পরিবার পেনশনের সুবিধা পেতে পারেন।
এইভাবে প্রকল্পটি শুধু ব্যক্তিগত নয়, পারিবারিক সুরক্ষার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
কীভাবে আবেদন করবেন?
কিষাণ মানধন যোজনায় আবেদন করার দুটি পদ্ধতি রয়েছে—অনলাইন ও অফলাইন।
অনলাইন আবেদন পদ্ধতি
১. সরকারি ওয়েবসাইট www.pmkmy.gov.in-এ যান।
২. “Apply Now” অপশনে ক্লিক করুন।
৩. আধার নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন শুরু করুন।
৪. প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে আবেদন জমা দিন।
অনলাইনে আবেদন করলে দ্রুত রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়।
অফলাইন আবেদন পদ্ধতি
যাঁরা অনলাইনে আবেদন করতে স্বচ্ছন্দ নন, তাঁরা নিকটবর্তী কমন সার্ভিস সেন্টার (CSC)-এ যেতে পারেন।
- অপারেটর প্রয়োজনীয় তথ্য নথিভুক্ত করবেন।
- অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করবেন।
- একটি অটো-ডেবিট ম্যান্ডেট ফর্ম পূরণ করতে হবে।
এর ফলে মাসিক কিস্তির টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হবে।
আবেদন করতে কী কী নথি প্রয়োজন?
আবেদন করার সময় নিম্নলিখিত নথি সঙ্গে রাখতে হবে—
- আধার কার্ড
- ব্যাঙ্ক পাসবই
- মোবাইল নম্বর
- বয়সের প্রমাণপত্র
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট অবশ্যই সক্রিয় থাকতে হবে এবং আধারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা উত্তম।
কেন এই স্কিম গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতের বড় অংশের কৃষকই অনিয়মিত আয় ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মধ্যে জীবনযাপন করেন। বয়ঃপ্রাপ্তির পর নিয়মিত আয় না থাকলে তাঁদের আর্থিক সংকট দেখা দেয়।
কিষাণ মানধন যোজনা—
- বার্ধক্যে ন্যূনতম আয় নিশ্চিত করে
- ক্ষুদ্র কৃষকদের সামাজিক সুরক্ষা দেয়
- স্বল্প অবদানে দীর্ঘমেয়াদি পেনশন সুবিধা দেয়
অল্প অঙ্কের মাসিক সঞ্চয় দীর্ঘমেয়াদে বড় সহায়তায় পরিণত হয়।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি মনে রাখবেন
- কিস্তি নিয়মিত না দিলে সুবিধা প্রভাবিত হতে পারে।
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালান্স রাখতে হবে।
- ব্যক্তিগত তথ্য সঠিকভাবে জমা দিতে হবে।
স্কিমে যোগ দেওয়ার আগে শর্তাবলি ভালোভাবে পড়ে নেওয়া উচিত।
প্রধানমন্ত্রী কিষাণ মানধন যোজনা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা প্রকল্প। ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে যোগ দিলে স্বল্প মাসিক অবদানের মাধ্যমে ৬০ বছর পর মাসে ৩০০০ টাকা পেনশন পাওয়া সম্ভব।
যাঁরা আয়করদাতা নন এবং অন্য কোনো সরকারি পেনশন প্রকল্পে যুক্ত নন, তাঁরা এই স্কিমে আবেদন করতে পারেন। অনলাইন বা CSC—দুই পথেই আবেদন সহজ।
বৃদ্ধ বয়সে আর্থিক স্থিতি নিশ্চিত করতে এখন থেকেই পরিকল্পনা করা জরুরি। নিয়মিত অবদান ও সঠিক তথ্য প্রদান করলে এই স্কিম ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তায় পরিণত হতে পারে।
