Government New Scheme 2026: গ্রামের মাঠে গরু চরানো—যে কাজটি এতদিন অনানুষ্ঠানিক, পারিবারিক বা সামাজিক দায়িত্ব হিসেবেই দেখা হতো, সেটিই এবার সংগঠিত কর্মসংস্থানের রূপ পেয়েছে। নির্দিষ্ট সংখ্যক গবাদিপশুর দায়িত্ব নিলে মিলবে মাসিক ১০,০০০ টাকা। ইতিমধ্যেই কয়েকটি গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে এই মডেল চালু হয়েছে, আর তা ঘিরেই শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা।
কেউ বলছেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুন করে শক্তিশালী করার বাস্তব উদ্যোগ। আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন—এটি কি সত্যিই টেকসই কর্মসংস্থান, নাকি সাময়িক সমাধান?
সম্পর্কিত পোস্ট
সুখবর! কৃষক বন্ধু থাকলেও মিলবে সুযোগ, মাসে ১৫০০ টাকার অনুদান - WB Yuva Sathi Scheme News
কী এই নতুন কর্মসংস্থান মডেল?
এই প্রকল্পে গরু চরানো ও দেখভালের কাজকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে যেখানে গ্রামের মানুষ নিজের গবাদিপশু নিজেরাই দেখতেন, এখন নির্দিষ্ট সংখ্যক পশুর জন্য একজন ‘রাখাল’ নিযুক্ত করা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে যে কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে তা হল—
- প্রতি ৭০টি গরুর জন্য একজন রাখাল
- গরুর সংখ্যা বাড়লে রাখালের সংখ্যাও বাড়ানো
- মাসিক ১০,০০০ টাকা পারিশ্রমিক
- অর্থের জোগান স্থানীয় অনুদান ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ থেকে
অর্থাৎ এটি সরাসরি সরকারি বেতনভুক্ত চাকরি নয়, বরং গ্রামভিত্তিক অংশগ্রহণমূলক মডেল।
কোথা থেকে শুরু?
প্রথম পর্যায়ে ১৪টি গ্রামে একজন করে রাখাল নিয়োগ করা হয়েছে। উদ্বোধনের সময় তাঁদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও সম্মাননা দিয়ে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়। এই প্রতীকী পদক্ষেপের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে—এটি শুধু চাকরি নয়, বরং একটি সামাজিক ভূমিকা।
কেন এমন উদ্যোগ?
গ্রামীণ জীবনে পশুপালন দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ভিত্তি। দুধ, গোবর, জৈব সার—সবই আয়ের উৎস। কিন্তু আধুনিক সময়ে বহু তরুণ শহরমুখী। ফলে খোলা মাঠে গবাদিপশুর সংগঠিত দেখভাল কমে গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে উদ্যোগের মূল লক্ষ্য—
১. গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা
২. ঐতিহ্যবাহী পেশার মর্যাদা ফিরিয়ে আনা
৩. পশুপালনকে সংগঠিত কাঠামোয় আনা
৪. স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থান তৈরি
পারিশ্রমিক ও কাঠামো এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| দায়িত্ব | গরু চরানো ও দৈনিক দেখভাল |
| অনুপাত | ৭০ গরু পিছু ১ রাখাল |
| মাসিক পারিশ্রমিক | ১০,০০০ টাকা |
| অর্থের উৎস | স্থানীয় অনুদান ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা |
| প্রাথমিক পর্যায় | ১৪টি গ্রাম |
সমর্থকদের মত কী?
সমর্থকদের মতে, সব কর্মসংস্থানই প্রযুক্তিনির্ভর হতে হবে এমন নয়। গ্রামীণ বাস্তবতায় কৃষি ও পশুপালনই এখনও প্রধান জীবিকা। সংগঠিত রাখাল ব্যবস্থা চালু হলে—
- গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে
- দুধ উৎপাদন বাড়তে পারে
- গ্রামে দায়িত্ববোধ তৈরি হবে
- বেকার যুবকদের ন্যূনতম আয় নিশ্চিত হবে
তাঁদের মতে, স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় পেশাকেই গুরুত্ব দিতে হবে।
সমালোচকদের আপত্তি কোথায়?
এই উদ্যোগ ঘোষণার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে নানা দিক থেকে।
- মাসিক ১০,০০০ টাকা কি পর্যাপ্ত?
- অনুদাননির্ভর বেতন দীর্ঘমেয়াদে টিকবে?
- আধুনিক দক্ষতা উন্নয়ন ছাড়া যুব সমাজের ভবিষ্যৎ কী?
- এটি কি স্থায়ী চাকরি হিসেবে বিবেচিত হবে?
কেউ কেউ মনে করছেন, পশুপালনকে আধুনিক দুগ্ধশিল্প, ভেটেরিনারি পরিষেবা ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত না করলে এই মডেল সীমাবদ্ধ হয়ে পড়তে পারে।
আর্থিক কাঠামো কতটা বাস্তবসম্মত?
যেহেতু বেতন সরাসরি সরকারি কোষাগার থেকে নয়, তাই অর্থ সংগ্রহের ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহায়তা থাকলে প্রকল্পটি এগোতে পারে। কিন্তু অনুদান কমে গেলে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
এখানেই বড় চ্যালেঞ্জ—সামাজিক অংশগ্রহণকে কতদিন ধরে রাখা যাবে?
গ্রামীণ বাস্তবতায় সম্ভাব্য প্রভাব
যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়, তাহলে কয়েকটি ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে—
- অবাধে ঘোরাফেরা করা গবাদিপশুর ক্ষতি কমবে
- চারণভূমির সঠিক ব্যবহার হবে
- দুধ উৎপাদন বাড়তে পারে
- গ্রামে কর্মসংস্থানের নতুন পথ খুলবে
তবে সাফল্য নির্ভর করবে নজরদারি ও পরিকল্পনার ওপর।
ঐতিহ্য বনাম আধুনিকতা
এই উদ্যোগকে কেউ দেখছেন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে। আবার কেউ বলছেন, এটি পশ্চাদমুখী ভাবনার পরিচায়ক।
বাস্তবতা হল—গ্রামীণ ভারতের বড় অংশ এখনও কৃষি ও পশুপালনের ওপর নির্ভরশীল। তাই ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয় করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
শেষ পর্যন্ত কোন রাজ্যে এই প্রকল্প?
শুরুতে বিষয়টি সাধারণ কর্মসংস্থান উদ্যোগ হিসেবে সামনে এলেও, এই প্রকল্পটি কার্যকর হয়েছে উত্তর-পশ্চিম ভারতের এক বিজেপি-শাসিত রাজ্যে। বিশেষ করে কোটা জেলা থেকে এর সূচনা হয়েছে। অর্থাৎ এই ‘গাঁও গোয়ালা যোজনা’ বাস্তবায়ন করছে Rajasthan সরকার।
মাঠে গরু চরানোকে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মাসিক ১০,০০০ টাকার পারিশ্রমিক—এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এটি কি গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন মডেল হয়ে উঠবে, নাকি বিতর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে—তা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন ও আর্থিক স্থায়িত্বের ওপর।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—ঐতিহ্যবাহী পেশাকে নতুন কাঠামোয় সংগঠিত করার এই প্রচেষ্টা গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে।
