Gas Cylinder Rate 2026: মার্চ মাস শুরু হতে আর হাতে গোনা কয়েক দিন। প্রতি মাসের প্রথম দিনেই দেশজুড়ে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সংশোধন করে তেল বিপণন সংস্থাগুলি। সেই নিয়ম মেনেই ১ মার্চ নতুন দাম ঘোষণা হতে পারে। ফলে সাধারণ গৃহস্থালি থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী— সকলের নজর এখন গ্যাসের দামের দিকে।
দাম বাড়বে না কমবে, তা নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তবে গত কয়েক বছরের প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মার্চ মাসে বিশেষ করে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দামে পরিবর্তন বেশি দেখা যায়। সেই কারণেই সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
সম্পর্কিত পোস্ট
রেশন নিয়ে সুখবর! ফের বাড়তি দ্রব্য মিলবে এই রেশন কার্ড থাকলে - WB Ration Card Update 2026
বর্তমানে কোন শহরে কত দাম চলছে
সরকারি তেল সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৪.২ কেজির ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের বর্তমান দাম দেশের প্রধান চার মহানগরে নিম্নরূপ—
ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডার (১৪.২ কেজি)
| শহর | বর্তমান মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| দিল্লি | ৮৫৩ |
| কলকাতা | ৮৭৯ |
| মুম্বই | ৮৫২.৫০ |
| চেন্নাই | ৮৬৮.৫০ |
এই দাম ভর্তুকি ও কর কাঠামোর উপর নির্ভর করে রাজ্যভেদে কিছুটা আলাদা হতে পারে।
বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের বর্তমান দাম
১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার মূলত হোটেল, রেস্তোরাঁ, রাস্তার খাবারের দোকান ও ক্যাটারিং পরিষেবায় ব্যবহৃত হয়। এই সিলিন্ডারের দাম ঘরোয়া সিলিন্ডারের তুলনায় অনেক বেশি।
বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার (১৯ কেজি)
| শহর | বর্তমান মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| দিল্লি | ১,৭৪০.৫০ |
| কলকাতা | ১,৮৪৪.৫০ |
| মুম্বই | ১,৬৯২ |
| চেন্নাই | ১,৮৯৯.৫০ |
দেখা যাচ্ছে, কলকাতা ও চেন্নাইয়ে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম তুলনামূলক বেশি।
মার্চ মাসে দাম বাড়ার ইতিহাস
গত কয়েক বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মার্চ মাসে ঘরোয়া ও বাণিজ্যিক— দুই ক্ষেত্রেই মূল্যবৃদ্ধির নজির রয়েছে।
ঘরোয়া সিলিন্ডারের মার্চের পরিবর্তন
| বছর | মার্চ মাসে মূল্যবৃদ্ধি |
|---|---|
| ২০২৩ | ৫০ টাকা |
| ২০২২ | ৫০ টাকা |
| ২০২১ | ২৫ টাকা |
বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের মার্চের পরিবর্তন
| বছর | কী পরিবর্তন হয়েছিল |
|---|---|
| ২০২৩ | বহু শহরে ১০০ টাকার বেশি বৃদ্ধি, দিল্লিতে প্রায় ১০৫ টাকা |
| ২০২২ | মার্চে দু’বার দাম সংশোধন, একাধিক শহরে ১০০ টাকার বেশি বৃদ্ধি |
এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে, মার্চ মাসে বিশেষ করে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে দাম বাড়ার প্রবণতা বেশি।
কেন মার্চে দামে নড়াচড়া বেশি হয়
মার্চ মাস আর্থিক বছরের শেষ মাস। অনেক সময় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার এবং আমদানি খরচের পরিবর্তন এই সময় বেশি প্রভাব ফেলে।
বাণিজ্যিক এলপিজির দাম সরাসরি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের সঙ্গে বেশি সংযুক্ত। ফলে বাজারদরের সামান্য পরিবর্তনও দ্রুত প্রতিফলিত হয়।
অন্যদিকে, ঘরোয়া সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে সরকারি নীতি, ভর্তুকি এবং সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তাই ঘরোয়া গ্যাসের দাম তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকে।
দাম বাড়লে কারা বেশি প্রভাবিত হবেন
১. সাধারণ গৃহস্থালি – মাসিক বাজেটে সরাসরি চাপ বাড়বে
২. রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকান – রান্নার খরচ বৃদ্ধি পেলে খাদ্যের দাম বাড়তে পারে
৩. ছোট ব্যবসায়ী ও ক্যাটারিং পরিষেবা – পরিষেবা খরচ বাড়ার সম্ভাবনা
৪. মধ্যবিত্ত পরিবার – মাসিক ব্যয়ের ভারসাম্যে প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বাড়লে তার প্রভাব বাজারে দ্রুত পড়তে পারে। কারণ খাবারের দোকান বা রেস্তোরাঁ বাড়তি খরচ পুষিয়ে নিতে খাদ্যের দাম বাড়াতে পারে।
কমার সম্ভাবনা কি আছে
যদিও অতীতের প্রবণতা মূল্যবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়, তবুও দাম কমার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম স্থিতিশীল থাকলে বা কমলে এলপিজির দামেও স্বস্তি আসতে পারে।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে তেল বিপণন সংস্থাগুলির মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ার উপর।
১ মার্চ কী নজরে রাখবেন
- ঘরোয়া ও বাণিজ্যিক দুই ধরনের সিলিন্ডারের নতুন দাম
- বিভিন্ন শহরে মূল্যবৈষম্য
- ভর্তুকি সংক্রান্ত কোনও নতুন ঘোষণা
- পরপর সংশোধনের সম্ভাবনা
সাধারণত প্রতি মাসের প্রথম দিন সকালেই নতুন দাম কার্যকর হয়।
উপসংহার
মার্চের ১ তারিখ এলপিজি সিলিন্ডারের দামে পরিবর্তন আসা প্রায় নিয়মিত ঘটনা। অতীতের তথ্য বলছে, বিশেষ করে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা বেশি।
বর্তমানে দিল্লি, কলকাতা, মুম্বই ও চেন্নাই— চার মহানগরে ঘরোয়া সিলিন্ডারের দাম ৮৫০ থেকে ৮৮০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, আর বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১,৬৯০ থেকে প্রায় ১,৯০০ টাকার মধ্যে।
১ মার্চের ঘোষণাই চূড়ান্ত ছবি স্পষ্ট করবে। তাই গৃহস্থালি ও ব্যবসায়ী মহল উভয়েরই নজর এখন নতুন দামের দিকে।
